বিজ্ঞাপন:
সংবাদ শিরোনাম:
মধ্যরাত থেকে আঘাত হানতে পারে কালবৈশাখী, সারা দেশে বৃষ্টির সতর্কবার্তাa শাপলা চত্বরে গণহত্যার বিচার দাবিতে শিবিরের কর্মসূচি ঘোষণা স্বামীকে আটকে রেখে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, আটক ৪ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বোরো চাষিদের ৭৫০০ টাকা করে সহায়তা দেবে সরকার: কৃষিমন্ত্রী সংসদকে প্রাণবন্ত করতে কাজ করবে নারী এমপিরা : মির্জা ফখরুল তেঁতুলিয়ায় কাজ ছাড়াই প্রকল্পের সাড়ে ৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তেঁতুলিয়ায় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী গ্রেপ্তা নীলফামারীতে পরিক্ষায় নকলের দায়ে তিন শিক্ষকসহ বহিষ্কার ৪, আটক ২ কুমিল্লায় বিএনপি নেতা আটকের পর থানা ঘেরাও নেতা-কর্মীদের ধর্ষণের শিকার হয়ে ১২ বছরের ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা, অভিযুক্ত মাদরাসা শিক্ষক
আজ ঐতিহাসিক চা শ্রমিক দিবস

আজ ঐতিহাসিক চা শ্রমিক দিবস

অনলাইন ডেস্ক:: আজ ২০ মে, ঐতিহাসিক চা শ্রমিক বা ‘মুল্লুকে চলো’ দিবস। সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন চা বাগানগুলোতে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে দিনটি। এই দিনটি স্মরণ করিয়ে দেয় ১৯২১ সালের সেই ভয়াল ঘটনাকে, যখন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের শোষণ আর নিপীড়ন থেকে মুক্তি পেতে নিজভূমে ফেরার আকুতি বুকে নিয়েছিলেন হাজার হাজার চা শ্রমিক।

চা শিল্প সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতাব্দীতে শুধু চীনেই চায়ের প্রচলন ছিল। ১৮৫৪ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পরীক্ষামূলকভাবে সিলেটের মালিনীছড়া চা বাগানে চা চাষ শুরু করে। এরপর বৃহত্তর সিলেটে বিস্তীর্ণ চা বাগান গড়ে তোলার জন্য ভারতের আসাম, উড়িষ্যা, বিহার, উত্তর প্রদেশসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শ্রমিকদের নিয়ে আসা হয়। ‘গাছ হিলেগা, রুপিয়া মিলেগা’ (গাছ নড়বে, টাকা মিলবে) – এমন লোভনীয় প্রতিশ্রুতিতে আকৃষ্ট হয়ে শ্রমিকরা ভিড় করে বাংলাদেশে। তবে এখানে এসে তাদের মোহ দ্রুতই ভেঙে যায়। দুর্গম পাহাড় পরিষ্কার করে চা বাগান তৈরি করতে গিয়ে বন্য জন্তুদের আক্রমণে প্রাণ হারান অসংখ্য শ্রমিক। তার ওপর ছিল ব্রিটিশদের অকথ্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।

এই অমানবিক অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন তৎকালীন চা শ্রমিক নেতা পণ্ডিত গঙ্গাচরণ দীক্ষিত ও পণ্ডিত দেওসরণ। তাদের উদাত্ত আহ্বানে সাড়া দিয়ে ১৯২১ সালের ২০ মে সিলেট অঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজার চা শ্রমিক পায়ে হেঁটে রওনা হন তাদের ‘মুল্লুক’-এর (নিজ দেশ) উদ্দেশে। দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে তারা পৌঁছান চাঁদপুর মেঘনা স্টিমার ঘাটে। কিন্তু মুক্ত জীবনের স্বপ্ন তাদের অধরাই থেকে যায়। জাহাজে ওঠার মুহূর্তে ব্রিটিশ গোর্খা সৈন্যরা নির্বিচারে গুলি চালায় নিরস্ত্র শ্রমিকদের ওপর। মেঘনা নদীর জল সেদিন শ্রমিকদের রক্তে লাল হয়ে উঠেছিল, ভেসে গিয়েছিল শত শত তাজা প্রাণ। যারা ভাগ্যক্রমে পালিয়ে বাঁচতে পেরেছিলেন, আন্দোলন করার ‘অপরাধে’ তাদেরও সহ্য করতে হয়েছিল নির্মম নির্যাতন। চা শ্রমিকদের পরানো হয়েছিল বিশেষ পরিচিতি ট্যাগ, কেড়ে নেওয়া হয়েছিল তাদের ভূমির অধিকার।

সেই ভয়াবহ স্মৃতি আজও তাড়িয়ে ফেরে চা শ্রমিকদের বংশধরদের। সেই থেকে প্রতি বছর ২০ মে দিনটি পালিত হয়ে আসছে ‘চা শ্রমিক দিবস’ হিসেবে। এই দিনটি একদিকে যেমন শহীদ শ্রমিকদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানায়, অন্যদিকে আজও চা শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের প্রতীক হয়ে থাকে।

এই দিনটিকে কেন্দ্র করে চা বাগানগুলোতে আলোচনা সভা, র‍্যালি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শ্রমিকরা তাদের পূর্বপুরুষদের স্মরণ করেন এবং নিজেদের ন্যায্য অধিকারের কথা তুলে ধরেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com